ব্লাস্ট ধানের একটি ছত্রাকজনিত ক্ষতিকারক রোগ। বোরো ও আমন মৌসুমে সাধারণত ব্লাস্ট রোগ হয়ে থাকে। অনুকূল আবহাওয়ায় রোগ প্রবণ জাতে এ রোগের আক্রমণে ফলন শতভাগ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। চারা অবস্থা থেকে শুরু করে ধান পাকার আগ পর্যন্ত যে কোনো সময় রোগটি দেখা দিতে পারে। এটি ধানের পাতা, গিট এবং নেক বা শীষে আক্রমণ করে থাকে। সে অনুযায়ী এ রোগটি পাতা ব্লাস্ট, গিঁট ব্লাস্ট ও নেক ব্লাস্ট নামে পরিচিত। আমন মৌসুমে সকল সুগন্ধি জাতে এবং বোরো মৌসুমে ব্রি ধান২৮, ব্রি ধান৫০, ব্রি ধান৬৩, ব্রি ধান৮১, ব্রি ধান৮৪, ব্রি ধান৮৮ সহ সকল সরু, আগাম ও সুগন্ধি জাতে শীষ ব্লাস্ট রোগ বেশি হয়ে থাকে। শুধুমাত্র এই একটি রোগের কারণেই ধানের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। তবে সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা নিলে এ রোগের আক্রমণ থেকে ধানকে রক্ষা করা সম্ভব।
ব্লাস্ট রোগের লক্ষণ
পাতা ব্লাস্ট
আক্রান্ত পাতায় প্রথমে ছোট ছোট কালচে বাদামি দাগ দেখা যায়। আস্তে আস্তে দাগগুলো বড় হয়ে মাঝখানটা ধূসর বা সাদা ও কিনারা বাদামি রং ধারণ করে। দাগগুলো একটু লম্বাটে হয় এবং দেখতে অনেকটা চোখের মত। একাধিক দাগ মিশে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পুরো পাতাটি শুকিয়ে মারা যেতে পারে।
গিট ব্লাস্ট
গিট আক্রান্ত হলে আক্রান্ত স্থান কালো ও দুর্বল হয়। জোরে বাতাসের ফলে আক্রান্ত স্থান ভেঙে যেতে পারে তবে একদম আলাদা হয়ে যায় না।
নেক বা শীষ ব্লাস্ট
শিশির বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে ধানের ডিগ পাতা ও শীষের গোড়ার সংযুক্ত স্থানে পানি জমে। ফলে উক্ত স্থানে ব্লাস্ট রোগের জীবাণু (স্পোর) আক্রমণ করে কালচে বাদামি দাগ তৈরি করে। পরবর্তীতে আক্রান্ত শীষের গোড়া পচে যাওয়ায় গাছের খাবার শীষে যেতে পারে না, ফলে শীষ শুকিয়ে দানা চিটা হয়ে যায়। দেরীতে আক্রান্ত শীষ ভেঙে যেতে পারে। শীষের গোড়া ছাড়াও শীষের অন্য যে কোনো স্থানেও এ রোগের জীবাণু আক্রমণ করতে পারে।
ব্লাস্ট রোগ দমনে করণীয়
- ব্লাস্ট রোগ দেখা দিলে জমিতে পানি ধরে রাখতে হবে। শুকনা জমিতে ব্লাস্ট রোগ বেশি দেখা যায়।
- পাতা ব্লাস্ট রোগ দেখা দিলে জমিতে বিঘা প্রতি অতিরিক্ত ৫ কেজি পটাশ সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে এবং ইউরিয়া সারের প্রয়োগ বন্ধ রাখতে হবে।
- পাতা ব্লাস্ট রোগের প্রাথমিক অবস্থায় শীষ ব্লাস্ট রোগের অনুরূপ ছত্রাকনাশক শেষ বিকালে ৫–৭ দিন অন্তর দু'বার প্রয়োগ করে সফলভাবে দমন করা সম্ভব।
- শীষ ব্লাস্ট রোগ হওয়ার পরে দমন করার সুযোগ থাকে না। তাই রোগের অনুকূল পরিবেশ যেমন: গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, দিনে গরম ও রাতে ঠান্ডা, শিশিরে ভেজা দীর্ঘ সকাল, মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, ঝড়ো আবহাওয়া বিরাজ করলেই ধানের জমিতে রোগ হোক বা না হোক, থোড় ফেটে শীষ বের হওয়ার সময় একবার এবং এর ৫–৭ দিন পর আরেকবার প্রতি বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে ৫৪ গ্রাম টুপার ৭৫ডব্লিউপি / দিফা ৭৫ডব্লিউপি / জিল ৭৫ডব্লিউপি অথবা ৩৩ গ্রাম নাটিভো ৭৫ডব্লিউজি, অথবা ট্রাইসাইক্লাজল/স্ট্রোবিন গ্রুপের অনুমোদিত ছত্রাকনাশক অনুমোদিত মাত্রায় ৬৭ লিটার পানিতে ভালভাবে মিশিয়ে শেষ বিকালে স্প্রে করতে হবে। মনে রাখতে হবে, শীষ ব্লাস্ট রোগ দমনের জন্য অবশ্যই রোগ হওয়ার আগেই ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে।
সূত্র: https://brri.gov.bd/pages/news/6922da0b933eb65569e02158